বাংলাদেশ

চকরিয়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে ছাদ উড়ে গেল, আর্তচিৎকারে ভারী মহাসড়ক: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত শিশু ও বাসচালক, আহত অন্তত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল মিরর

Chakaria Accident Card

চকরিয়ায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার ফটো কার্ড

চকরিয়া (কক্সবাজার) : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মেদাকচ্ছপিয়া ঢালায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু ও এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন যাত্রী। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী এভারগ্রিন পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের সঙ্গে চকরিয়া থেকে কক্সবাজারমুখী একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় লোকাল বাসটির ছাদ উড়ে গিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে এবং অপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। বিকট শব্দে দুই বাসের সংঘর্ষের পর চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত যাত্রীদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, নিহতরা হলেন উখিয়ার মরিচ্যা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে ও লোকাল বাসের চালক মোহাম্মদ আলী (২৫) এবং বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকার মঞ্জুর আলীর এক বছর বয়সী সন্তান ইয়াহিয়া।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বৃষ্টির কারণে লোকাল বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা এভারগ্রিন পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে মো. জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাইম, মাবুদ আবদুল, জোসনা আক্তার, মোহাম্মদ জনি, মো. আলী, ইমা, ফাতেমা বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইসমাইল ও মোহাম্মদ সিফাতসহ বেশ কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। গুরুতর আহত ইসমাইল ও সিফাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেয়। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়দের দাবি, মেদাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় সড়কটি আঁকাবাঁকা ও দুর্ঘটনাপ্রবণ হওয়ায় সেখানে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তারা দ্রুত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।