স্টাফ রিপোর্টার | বেঙ্গল মিরর: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই কক্সবাজারজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও স্থাপনাগুলো সাজানো হয় বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায়। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পিএমখালী এলাকায় যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনজ সম্পদ বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে এ কর্মসূচিকে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।
পেকুয়া সফরে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে পেকুয়া পৌরসভা এবং মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তার। জনসভাকে ঘিরে চকরিয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি ও জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে।
সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের বিশ্ববিখ্যাত সমুদ্র সৈকত ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কক্সবাজারের সর্বত্র উৎসবের আবহ এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সফরটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।