বাংলাদেশ

ভিকটিম নারীকে উদ্ধারে গিয়ে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ: চকরিয়া থানার এসআই আরকান ক্লোজড

SI Arkan Closed

চকরিয়া থানার এসআই আরকান ক্লোজড

কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক তরুণীকে উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগের ঘটনায় অবশেষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরকানুল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ঈদগাঁও উপজেলার এক তরুণী স্বেচ্ছায় চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকার এক যুবকের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে চকরিয়া থানা পুলিশ তাকে উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের সময় তরুণী পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে কয়েকজন আহত হন। এ সময় স্থানীয় যুবক নুরুল আমিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, মারধর এবং কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ তোলেন। উত্তেজিত জনতা পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও ভাঙচুর করে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশাসনিক স্বার্থে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই মো. আরকানুল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।